Questions in this chapter
পারিভাষিক শব্দ লেখ -
Nationality
পারিভাষিক শব্দ লেখ -
Visitor
পারিভাষিক শব্দ লেখ -
Humanity
আজকের দুনিয়াটা আশ্চর্যভাবে অর্থের বা বিত্তের ওপর নির্ভরশীল। লাভ ও লোভের দুর্নিবার গতি আগে যাওয়ার নেশায় লক্ষ্যহীন প্রচণ্ডবেগে শুধুই আত্মবিনাশের পথে এগিয়ে চলেছে; মানুষ যদি এই মূঢ়তাকে জয় না করতে পারে তবে মনুষ্যত্ব কথাটাই হয়ত লোপ পেয়ে যাবে। মানুষের জীবন আজ এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, যেখান থেকে আর হয়তো নামবার উপায় নেই; এবার উঠবার সিঁড়িটা না খুঁজলেই নয় ।
জোটে যদি মোটে একটি পয়সা
খাদ্য কিনিও ক্ষুধার লাগি
দুটি যদি জোটে তবে অর্ধেকে
ফুল কিনে নিও, হে অনুরাগী
বাজারে বিকায় ফল তন্ডুল
যে শুধু মিটায় দেহের ক্ষুধা
হৃদয়ে প্রাণের ক্ষুধা নাশে ফুল
দুনিয়ার মাঝে সেই তো সুধা
জাতি শুধু বাইরের ঐশ্বর্য-সম্ভার, দালান-কোঠার সংখ্যা বৃদ্ধি কিংবা সামরিক শক্তির অপরাজেয়তায় বড় হয় না, বড় হয় অন্তরের শক্তিতে, নৈতিক চেতনায় আর জীবনপণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষমতায়। জীবনের মূল্যবোধ ছাড়া জাতীয় সত্তার ভিত কখনো শক্ত আর দৃঢ় হতে পারে না। মূল্যবোধ জীবনাশ্রয়ী হয়ে জাতির সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়লেই তবে জাতি অর্জন করে মহত্ত্ব আর মহৎ কর্মের যোগ্যতা। সবরকম মূল্যবোধের বৃহত্তম বাহন ভাষা তথা মাতৃভাষা, আর তা ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব লেখক আর সাহিত্যিকদের।
সবারে বাসিব ভালো, করিব না আত্মপর ভেদ
সংসারে গড়িব এক নতুন সমাজ । মানুষের সাথে কভু মানুষের রবে না বিচ্ছেদ
সর্বত্র মৈত্রীর ভাব করিবে বিরাজ । দেশে দেশে যুগে যুগে কত যুদ্ধ কত না সংঘাত
মানুষে মানুষে হলো কত হানাহানি ।
এবার মোদের পুণ্যে সমুদিবে প্রেমের প্রভাত সোল্লাসে গাহিবে সবে সৌহার্দ্যের বাণী ।
দৈন্য যদি আসে, আসুক লজ্জা কি বা তাহে? মাথা উঁচু রাখিস ।
সুখের সাথি মুখের পানে যদি না চাহে;
ধৈর্য ধরে থাকিস। রুদ্ররূপে তীব্র দুঃখ যদি আসে নেমে
বুক ফুলিয়ে দাঁড়াস্ ।
আকাশ যদি বজ্র নিয়ে মাথায় পড়ে ভেঙে ঊর্ধ্বে দু'হাত বাড়াস্
অদ্ভূত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা; যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই-প্রীতি নেই-করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া ।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজও মানুষের প্রতি,
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি
কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাঁদের হৃদয়
বিপদে মোরে রক্ষা কর, এ নহে মোর প্রার্থনা বিপদে আমি না যেন করি ভয়। দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
দুঃখ যেন করিতে পারি জয় ।
সহায় মোর না যদি জুটে সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি, লভিলে শুধু বঞ্চনা,
নিজের বল না যেন টুটে
নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ, এ নহে মোর প্রার্থনা তরিতে পারি শকতি যেন রয় ।
শুধু গাফলতে, শুধু খেয়ালের ভুলে
দরিয়া-অথই ভ্রান্তি নিয়াছি তুলে,
আমাদেরি ভুলে পানির কিনারে মুসাফির দল বসি
দেখেছে সভয়ে অস্ত গিয়াছে তাদের সেতারা শশী
মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই,,
এই সূর্যকরে এই পুষ্পিত কাননে,
জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই !
ধরায় প্রাণের খেলা চিরতরঙ্গিত,
বিরহ মিলন কত হাসি অশ্রুময়,
মানবের সুখে দুঃখে গাঁথিয়া সংগীত
যদি গো রচিতে পারি অমর আলয় !
তোমাদের মাঝখানে লভি যেন ঠাঁই
তোমাদেরই মাঝখানে সকাল বিকাল
নব নব সংগীতের কুসুম ফুটাই ।
প্রকৃত জ্ঞানের স্পৃহা না থাকলে শিক্ষা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। তখন পরীক্ষা পাসটাই বড় হয় এবং পাঠ্যপুস্তকের পৃষ্ঠায় জ্ঞান সীমাবদ্ধ থাকে। এ কারণেই পরীক্ষায় পাস করা লোকের অভাব নেই আমাদের দেশে, কিন্তু অভাব আছে জ্ঞানীর। যেখানেই পরীক্ষা পাসের মোহ তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের উৎকণ্ঠিত রাখে, সেখানেই জ্ঞান নির্বাসিত জীবনযাপন করে। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে জগতের বুকে অক্ষয় আসন লাভ করতে হলে জ্ঞানের প্রতি তরুণ সমাজকে উন্মুখ করতে হবে। সহজ লাভ আপাতত সুখের হলেও পরিণামে কল্যাণ বহন করে না। পরীক্ষা পাসের মোহ থেকে মুক্ত না হলে তরুণ সমাজের সামনে কখনই জ্ঞানের দিগন্ত উন্মোচিত হবে না ।
স্বাধীনতা স্পর্শমণি সবাই ভালোবাসে
সুখের আলো জ্বালে বুকে দুঃখের ছায়া নাশে ।
স্বাধীনতা সোনার কাঠি খোদার সুধা দান,
স্পর্শে তাহার নেচে উঠে শূন্যে দেহে প্রাণ
মনুষ্যত্বের বান ডেকে যায় পশুর হৃদয় তলে,
বুক ফুলিয়ে দাঁড়ায় ভীরু স্বাধীনতার বলে।
দর্পভরে পদাহত উচ্চ করি শির,
শক্তিহীনেও স্বাধীনতা আখ্যাদানে বীর ।
সন্ধ্যা যদি নামে পথে, চন্দ্ৰ যদি পূর্বাচল কোণে
না হয় উদয়,
তারকার পুঞ্জ যদি নিভে যায় প্রলয় জলদে,
না করিব ভয়।
হিংস্র ঊর্মি ফণা তুলি, বিভীষিকা মূর্তি ধরি যদি
গ্রাসিবারে আসে,
সে মৃত্যু লঙ্ঘিয়া যাব সিন্ধু পারে নবজীবনের
নবীন আশ্বাসে ।
কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরই মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর।
রিপুর তাড়নে যখনি মোদের বিবেক পায় গো লয়,
আত্মগ্লানির নরক অনলে তখনি পুড়িতে হয়।
প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরই কুঁড়েঘরে।
ফুটিয়াছে সরোবরে কমল নিকর,
ধরিয়াছে কী আশ্চর্য শোভা মনোহর।
গুণ গুণ গুণ রবে কত মধুকরে
কেমন পুলকে তারা মধু পান করে,
কিন্তু এরা একদিন হারাইবে
যখন আসিবে কি অলি আর করিতে গুঞ্জন
আশায় বঞ্চিত হলে আসিবে না আর
আর না করিবে এই মধুর ঝংকার
সুসময়ে অনেকেই বন্ধু বটে হয়,
অসময়ে হায় হায় কেউ কারো নয় ।
কেবল ঈশ্বর এই বিশ্বপতি যিনি,
সকল সময়ের বন্ধু সকলের তিনি।
শ্রেষ্ঠ বলিয়া অহংকার করিতে যে লজ্জাবোধ করে না, যে মানুষকে নিম্নাসনে বসাইয়া রাখিতে আনন্দবোধ করে, যে দরিদ্র ও ছোটকে ছোট করিয়া রাখিতে কষ্ট অনুভব করে না, যে মানুষের শক্তি-স্বাধীনতা হরণ করিতে ব্যস্ত, যে মানুষের হাত দিয়া নিজের পায়ের জুতা খুলাইয়া লয়, তোমরা তাহাদিগকে সালাম করিও না। সে সারারাত্রি এবাদত করুক, মানুষ তাহার পদধূলি লইয়া মাথায় মাখুক, সে প্রথম শ্রেণির গাড়িতে চড়ক, সে রাজদরবারের সদস্য হউক, তোমরা তাহাকে আত্মীয় মনে করিও না। লক্ষ নরনারী মুক্তির আশায় করুণ নেত্রে তোমাদের দিকেই চাহিয়া আছে। লক্ষ, কোটি মানবাত্মা তোমাদের আগমনের অপেক্ষা করিতেছে। যে দুর্বৃত্তের দল সত্যকে চূর্ণ করিয়া আল্লাহর বাণীকে অবমাননা করিতেছে তাহাদিগকে দেখিয়া আর তোমরা শ্রদ্ধার আসন ছাড়িয়া দাঁড়াইও না ।
স্বাধীন হওয়ার জন্য যেমন সাধনার প্রয়োজন, তেমন স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সত্য, নিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতার প্রয়োজন। সত্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধহীন জাতি যতই চেষ্টা করুক তাদের আবেদন, নিবেদনে ফল হয় না। যে জাতির অধিকাংশ লোক মিথ্যাচারী সেখানে দু'চারজন সত্যনিষ্ঠকে বহু বিড়ম্বনা সহ্য করতে হবে, দুর্ভোগ পোহাতে হবে। কিন্তু মানুষ ও জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হলে সে কষ্ট সহ্য না করে উপায় নেই ।
বন্ধু, বলিনি ঝুট,
এইখানে এসে লুটাইয়া পড়ে সকল রাজমুকুট
এই হৃদয়ই সে নীলাচল, কাশী, মথুরা, বৃন্দাবন,
বুদ্ধ-গয়া এ, জেরুজালেম এ, মদিনা, কাবা-ভবন,
মসজিদ এই, মন্দির এই, গির্জা এই হৃদয়,
এইখানে বসে ঈসা মুসা পেল সত্যের পরিচয়।
এই রণ-ভূমে বাঁশির কিশোর গাহিলেন মহা-গীতা,
এই মাঠে হলো মেষের রাখাল নবিরা খোদার মিতা ।