RB_2021JB_2021CB_2021ChB_2021DiB_2021MSB_2021DB_2021

  \boxed{\mathbf{~ক~}} সংবিধান রচিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে । \\   \boxed{\mathbf{~খ~}} তমদ্দুন মজলিস হলো ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত প্রথম সংগঠন। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়। এ সংগঠনের উদ্যোগেই ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু প্রকাশিত হয়েছিল। এ সংগঠনের উদ্যোগেই ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়েছিল । \\   \boxed{\mathbf{~গ~}} উদ্দীপকের কবিতাটি আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ।পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই এ রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা করার প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলা-উর্দু ভাষা বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে ১৭ মে চৌধুরী খালীকুজ্জামান এবং ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করেন। তাদের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ড. মুহাম্মদ এনামুল হকসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবিরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গঠন করা হয় তমদ্দুন মজলিস নামক সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় একইভাবে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দিলে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য ছাত্র শিক্ষকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষের সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু হয়। গঠন করা হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% বাংলা ভাষাভাষী হওয়াতে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনে শহরে বন্দরে সব শ্রেণিপেশার মানুষ শামিল হয়। শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী মহলও বাংলাভাষার পক্ষে আন্দোলন শুরু করে। এ সময় আব্দুল লতিফ রচনা করেন 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' গানটি। এছাড়া আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'। মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক এবং জহির রায়হান রচনা করেন আরেক ফাল্গুন উপন্যাসটি। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। \\   \boxed{\mathbf{~ঘ~}}উক্ত ঘটনা অর্থাৎ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনা ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম ধাপ- বক্তব্যটির সাথে আমি একমত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ ঘটনা। পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথা প্রেরণা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারের অবহেলা, শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির মনকে প্রবল নাড়া দিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তানিদের হাতে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি অর্থনীতির কিছুই নিরাপদ নয়। এভাবেই বাঙালির মাঝে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপিত হয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাংলার শোষিত, বঞ্চি জনগণ তাদের কাম্য শাসনব্যবস্থা প্রণয়ন করতে সমর্থ হয়। যার প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। পরিশেষে বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ফলেই বাঙালি জনগণ পরবর্তী সকল আন্দোলনে আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা পায়। তাই ভাষা আন্দোলনকে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম ধাপ বলা যায়। -

Loading answers...